হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ এর উপর আমার ছোট্ট মতামত

কিছুদিন ধরেই দেখছি হিন্দু আর মুসলিম-এর অসন্তোষ ক্রমেই বেড়ে উঠছে.
এতকাল তো শান্তিতে ছিলাম, হঠাৎ কেন মাতামাতি ?

দুপক্ষই এমন এমন সব Dialog , Lecture আর স্লোগান দিচ্ছে যে আমাদের ঠান্ডা সেঁতসেঁতে রক্তকে হঠাৎ গরম করার জন্য যথেষ্ট. কিন্তু কেন এই নতুন ঢেউ ? এটা কি ভালো না খারাপ ? দূরদর্শি কোনো দেশপ্রেমিকের স্বপ্ন ? নাকি কুটিল কোনো politician এর ভোট দখলের এক নতুন চাল ? এই নতুন ঢেউ-এ গা ভাসালে আমাদের কি একটা পয়সাও ঘরে আসবে ? নাকি কদিন পরে ওই chair টা বদলে গেলে আমরাই “বলি কা বাকরা” হবো ?

কদিন পরে আমার একবার শ্রীরঙ্গপত্তনম, মহীশূর, মালাবার, কোচিন বেড়াতে যাবার ইচ্ছে, তাই ওই জায়গাগুলো নিয়ে একটু পড়াশুনো করতে বসলাম. টিপু সুলতান বরাবর-ই একটি বিতর্কিত অধ্যায়. ইদানিং মমতা ব্যানার্জির দৌলতে কলকাতায় টিপু মসজিদের বরকতী ইমাম এর বক্তব্য উপেক্ষা করতে পেরেছে এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল. সত্যি কথা বলতে কি, টিপু-কে আমার ছোটবেলা থেকেই একটা হিরো বলে মনে হয়. মহাভারতের কর্ণ , একলব্য থেকে শুরু করে নেতাজি, মাস্টারদা বা টিপু এরাই তো আমাদের মনের মধ্যে ঢুকে আমাদের মানুষ তৈরী করে. হোক যতই বিতর্কিত, মানুষটা যুদ্ধ করতে গিয়ে পালানোর রাস্তা পেয়েও ফিরে এসে যুদ্ধ করে মারা গেছিলো. এযুগে কে করবে ? জ্যোতি, মমতা, বুদ্ধ, যোগী, সোনিয়া নাকি মোদী ? কেউ নয়.

এক জায়গায় পড়লাম, টিপু নাকি কয়েক লক্ষ হিন্দুকে মুসলিম-এ convert করেছিলেন. এটা তো ঠিক নয়. তুমি আর যাই করো, কারো ধর্ম বদলাতে পারো না. যদিও ২০০ বছরের আগের প্রেক্ষাপট আর আজকের দিন এক নয়, কিন্তু ভুল তো সব-সময়-ই ভুল. টিপু তো আর ওর বাবার মতন অশিক্ষিত ছিলেন না, তাই “শিক্ষার অভাব” বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না.
ভেবে দেখলাম শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ভারতে হিন্দুদের শুধু মুসলিম-এ convert ই করা হয়েছে. তার মানে, বাইরে থেকে হাতে গোনা কিছু মুসলিম ভারতের অর্ধেক হিন্দুকে মুসলিম বানিয়ে দিলো. তার মানে হিন্দু আর মুসলিম-এ তফাৎ বলে শুধু কিছু নেই টা নয়, আসলে আমরা সত্যি ভাই-ভাই.
না আমি এখানে হিন্দু আর মুসলিম-কে ভাই  বানাতে আসিনি. আমি শুধু বলতে এসেছি কি অদ্ভুত একটা conflict . আজ যারা হিন্দু হয়ে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে, কাল তারাই মুসলিম হয়ে হিন্দুদের কাটতে আসছে. ঠিক যেন Zombie . “ওরা ক্ষেপা , ওরা পাগল, ওরা গরু খায়, ওদের গায়ে অসম্ভব জোর” এইসব ছেলেকে ঘুম পাড়ানো ভয়ের চোটে পুরো একটা দেশ দুই হাজার বছর ধরে কেঁপে যাচ্ছে. যে বা যারা এই হিন্দুকে মুসলিম বানানোর ধান্দাটা আবিষ্কার করেছিল, তারা কত ভালোভাবে এই হিন্দু গাধাগুলোকে বুঝতে পেরেছিলো. আজ যে হিন্দুরা তলোয়ার হাতে তোমাকে (মুসলিমদের) কাটতে যাচ্ছে, তাকেই ধরে মুসলিম বানিয়ে দাও, সে বা তার ছেলেরা তলোয়ার হাতে অন্য হিন্দুদের কাটতে বেরোবে. তখন অন্য হিন্দুরাই তার ভয়ে খাটের তলায় লুকাবে. কি অদ্ভুত না ?
হিন্দুরা একবার মুসলিম বা অন্য জাতি হলে নাকি আবার হিন্দু হওয়া যায় না. এটা অদ্ভুতভাবে সমস্ত মুসলিমরা জানে. তাই জোর করে তারা হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করা থেকে হিন্দু ছেলেকে মুসলিম বানিয়ে দেওয়া চালিয়ে যায়. আচ্ছা, এই অদ্ভুত নিয়মটা কে বানিয়েছিলো ? হিন্দুরা ? না মুসলিমরা ? মুসলিম বা খ্রিস্টান বা বুদ্ধিস্ট ধর্ম আজ থেকে ২৫০০, ২০০০ আর ৩০০০ বছর আগে হয়েছে. তার বহু বহু আগে হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি. যখন হিন্দু ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্ম ছিলই না, তখন কি করে এমন একটা সামাজিক নিয়ম তৈরী হয় ? গাদাখানেক ভুলভাল ধা রণা চাপিয়ে দিয়ে আমাদের বোকা বানিয়ে রাখা আছে. মেঘের উপরে বা আড়ালে যারা বসে আছে তারা হিন্দু না মুসলিম বোঝা সম্ভব নয়, আর আমাদের থেকেই একটা দল  বানিয়ে তাদের মুসলিম রূপ দিয়ে আমাদের সাথে লড়াই লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে. আমরাও তেমন, ওরা আমাদের থেকে বেশি শক্তিশালী ভেবে কাল্পনিক যুদ্ধে মুসলিমদের হারাতে হবে ভেবে কোনো সরকার-কে ভোট দিয়ে যাচ্ছি.
সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য বা প্রজাদের ভোট নেবার জন্য যেমন রাবন “স্বর্গের সিঁড়ি” নামক একটা কাল্পনিক agenda সামনে রেখেছিলেন, তেমনি, বাচ্ছাদের ছোয়া-ছুঁই খেলার মতন আমাদের থেকেই কিছু লোককে মুসলিম বানিয়ে কাল্পনিক একটা video game এর ভয় দেখিয়ে সরকার গঠন চলছে.
অদ্ভুত না ?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s